হ্যাটট্রিক জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থেকে ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে সেই আত্মবিশ্বাসী দলকে একদমই খুঁজে পাওয়া গেল না। অনেক ভুলের চড়া মাশুল দিতে হলো আলপি-অর্পিতা-ইয়ারজানদের। নেপালের পোখরায় সাফ অ-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশকে ০- ৪ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত।
রাউন্ড রবিন লিগে বাংলাদেশের কাছে ২–০ ব্যবধানে হারের মধুর প্রতিশোধ ফাইনালেই নিল ভারত। এর আগে বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতায় দুইবারই ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ২০২১ সালে বাংলাদেশ ১–০ গোলে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল। আর ২০২৪ সালে সেই আলোচিত ‘টস কাণ্ড’-এর পর সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) দুই দলকে যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে।
বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট গ্রুপ পর্যায়ে দাপুটে ফুটবল খেলেছে। তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ১৮ গোল করলেও বাংলাদেশের জালে কেউ বল পাঠাতে পারেনি। তবে আজ ফাইনালে ঘটেছে উল্টো ঘটনা। বাংলাদেশ কোনো গোল করতে পারেনি। ভারত বাংলাদেশের জালে চার বার বল পাঠিয়েছে। ভারত বাংলাদেশের বিপক্ষে নিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পিত ফুটবল খেলেছে। সেখানে বাংলাদেশ একেবারে ছন্নছাড়া।
গ্রুপ পর্যায়ের খেলায় বাংলাদেশ ২-০ গোলে ভারতকে হারায়। ঐ ম্যাচে প্রথমার্ধে বাংলাদেশ জোড়া গোল করেছিল। পুরো ম্যাচই ছিল বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ। আজ ফাইনালে বাংলাদেশ সেই খেলা খেলতে পারেনি। কোচ বাটলারের রক্ষণ বারবার পরাস্ত হয়েছে। গোলরক্ষক ইয়ারজান দুই বার শিশুসুলভ ভুল করেছেন।
ম্যাচের ৪২ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণের ভুলে ভারতীয় অধিনায়ক বক্সে পুরো আনমার্কড ছিলেন। প্লেসিংয়ে গোল করতে কোনো সমস্যা হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ে। ৬১ মিনিটে ভারতের একটি লং বল বক্সের সামনে ধরতে এসে ব্যর্থ হন গোলরক্ষক ইয়ারজান। গোলরক্ষক ভারতের ফরোয়ার্ডকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ভারতের ফরোয়ার্ড বলের পেছনে ছুটে না পেয়ে ডাইভ দিয়ে পড়ে যান। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। পেনাল্টি থেকে ভারত ব্যবধান দ্বিগুণ করে।
মিনিট কয়েক পর প্রতীমার ব্যাক পাসে ইয়ারজান শট নিতে গেলে সামনে দৌড়ে আসেন পার্ল ফার্নান্দেজ। ইয়ারজানের শট নেন প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়েরর শরীর বরাবর। এরপর আলতো টোকায় গোল করেন ভারতীয় স্ট্রাইকার। ৮৩ মিনিটে ডিফেন্সের ভুলে ৪ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাটলারের দল।












